Ticker

6/recent/ticker-posts

Ad Code

Responsive Advertisement

দেশে চিকিৎসায় আস্থাহীনতা, বিদেশে চিকিৎসার প্রতি মানুষের ঝোঁক বাড়ছে

প্রতি বছর ভারত, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ডসহ ১৯টিরও বেশি দেশে চিকিৎসা নিতে যাচ্ছেন ৮ লাখেরও বেশি বাংলাদেশি, যাদের বেশিরভাগই পাড়ি জমাচ্ছেন ভারতে। যদিও সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান নেই, তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ক্যানসার, কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট এবং জটিল সার্জারির মতো রোগের উন্নত চিকিৎসার অভাবে এই ধারা অব্যাহত রয়েছে।

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের স্বাস্থ্য খাতের সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানো এবং অঙ্গ প্রতিস্থাপন, ক্যানসার চিকিৎসা ও জটিল সার্জারির মতো উচ্চমূল্যের চিকিৎসায় সরকারের আর্থিক সহায়তা প্রদান জরুরি।

রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘চিকিৎসা সেবায় বিদেশমুখিতা : আমাদের উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এসব তথ্য উঠে আসে। বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএমসিএ) আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বক্তারা জানান, চিকিৎসকদের পর্যাপ্ত সময় না দেওয়া, ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে সঠিক রোগ নির্ণয়ের ঘাটতিসহ অন্তত ২১টি কারণে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা কমছে।

বৈঠকে বক্তারা আরও জানান, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশের বাইরে চিকিৎসা বাবদ ব্যয় হয়েছে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকৃত ব্যয় আরও বেশি।

বিপিএমসিএ সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মো. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, দেশে স্বাস্থ্যসেবায় কিছু উন্নতি হলেও অব্যবস্থাপনা এবং মানসম্পন্ন চিকিৎসার অভাব এখনো রয়ে গেছে। এ ঘাটতি পূরণে উন্নত প্রযুক্তি, দক্ষ মানবসম্পদ এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধার করা জরুরি। অধ্যাপক ডা. মো. হুমায়ুন কবির তালুকদার বলেছেন, দেশের বাইরে চিকিৎসা নেওয়ার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি পেশাজীবী ব্যবসায়ীদের মধ্যে দেখা যায়। থাইল্যান্ড ও ভারতে চিকিৎসার জন্য যাওয়া রোগীর সংখ্যা প্রায় সমান, এর পরেই রয়েছে সিঙ্গাপুর। তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালগুলোর আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেশে বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হলে বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশেই ধরে রাখা সম্ভব।

গবেষণায় দেখা গেছে, ১২টি প্রধান রোগের জন্য মানুষ দেশের বাইরে যাচ্ছে। এর মধ্যে হৃদরোগ (১৭%) শীর্ষে রয়েছে। কিডনি রোগ (১৪.৫%), অর্থোপেডিক সার্জারি (১১.৫%), লিভার এবং ক্যানসার চিকিৎসা (১১% করে), নিউরোলজি (৯%), গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি ও ইউরোলজি (৬%), নাক-কান-গলা (৫%), এবং জেনারেল সার্জারি ও গাইনোকলজি (৪% করে) রোগীর বিদেশমুখী হওয়ার প্রধান কারণ। চোখ এবং দাঁতের চিকিৎসার জন্য বিদেশগামী রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে কম (২% করে)।

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব ডা. মো. সারওয়ার বারী বলেন, দেশের স্বাস্থ্যসেবা উন্নত করতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। এজন্য মেডিকেল অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। বিদেশমুখী প্রবণতা কমাতে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষ জনবল নিশ্চিত করা হবে।

বিপিএমসিএ সভাপতি এমএ মুবিন খান বলেন, দেশের স্বাস্থ্যসেবার অবকাঠামো এবং চিকিৎসার মান উন্নয়নে আরও বিনিয়োগ প্রয়োজন। জটিল রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসার সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আধুনিক সরঞ্জামের জোগান নিশ্চিত করতে হবে।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ বলেন, আন্তর্জাতিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে উন্নতমানের চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব।

বিএমডিসি সহসভাপতি অধ্যাপক মো. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে সাশ্রয়ী চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি চিকিৎসা পর্যটন সম্প্রসারণে সরকারকে কর ছাড়সহ আর্থিক সহায়তা দিতে হবে। একটি জাতীয় বিমা স্কিম চালু করলে আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা সেবাও সহজলভ্য হবে, যা মানুষকে বিদেশে যাওয়ার পরিবর্তে দেশে চিকিৎসা নিতে আগ্রহী করবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ